‘আরে ড্রাইভার! গাড়ি এতো আস্তে চালাও কেন? জোরে চালাও। জোরে চালাও। আমাদেরকে অফিস-আদালত-কাজে পৌঁছাতে হবে তো!’
এই কথাগুলো গুলিস্তান-ধামরাই ডিলিংক বাসের যাত্রীদের। এই প্রতিবেদক আজ বুধবার সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের অবস্থা দেখতে বাসে যাত্রা শুরু করে। ভোর ছয়টায় রাজধানীর চানখাঁরপুল থেকে তিনি বাসে ওঠেন। নামেন সাভারে। সাভার থেকে বাসে ধামরাই যাওয়ার পথে বাসের যাত্রীরা এভাবেই চালককে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালাতে প্ররোচিত করছিলেন। 


এর পর এই প্রতিবেদক বাসে ধামরাই থেকে মানিকগঞ্জের নয়াডিঙ্গি পর্যন্ত যান। সকাল থেকেই একটানা বৃষ্টি ঝরছে। এর মধ্যেই ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চলছে যানবাহন। এই মহাসড়কে অনেকগুলো বাঁক আছে। তবে সবগুলো বাঁকের আগে এ সম্পর্কিত কোনো চিহ্ন নেই। বাঁকের আশপাশে অনেক বড় বড় গাছ। এ সব গাছের জন্য বোঝা যায় না সামনে গাড়ি আছে কি নেই। এমন কি এ সব বাঁকে গাড়ির গতিও কমানো হয় না। 
ধামরাই থেকে মানিকগঞ্জের নয়াডিঙ্গিমুখী বাস ভিলেজ লাইনের চালক আলী জানালেন, বাঁক বা গতিতে তাঁদের (চালক) কোনো সমস্যা হয় না। গাড়ি চালাতে চালাতে তাঁরা অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। 
এই প্রতিবেদক দেখতে পান, ধামরাইয়ে কোহিনূর মিল গেটের সামনে মহাসড়কের পাশে নির্দেশকে লেখা সর্বোচ্চ গতি ৪০ কিলোমিটার। কিন্তু কোনো চালককেই এই গতিতে সেখানে গাড়ি চালাতে দেখা গেল না। আবার ৪০ কিলোমিটার বেগে চালক কতদূর পর্যন্ত চালাবে সেটার কোনো নির্দেশনার কথাও কোথাও উল্লেখ নেই। 
প্রসঙ্গত, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে মানিকগঞ্জের জোকায় গত শনিবার সড়ক দুর্ঘটনায় খ্যাতিমান চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ, এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান সম্পাদক মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহত হন।


সূত্র:প্রথমআলো.কম, ১৭/০৮/২০১১

Leave a Reply

SM World