মহাসড়কের মেরামতকাজ শেষ না হলেও ঢাকা-ময়মনসিংহ এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল পথে আজ থেকে বাস চলবে। যোগাযোগ ও নৌপরিবহন-মন্ত্রীর অনুরোধে পরিবহনমালিকেরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন গতকাল বিলাসবহুল গাড়ি নিয়ে সড়ক পরিদর্শনে যান। তাঁর গাড়িও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের কয়েকটি স্থানে কাদায় আটকে যায়। সড়কের ক্ষতবিক্ষত স্থানগুলোতে মন্ত্রী নামেননি, গাড়িতে বসেই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাওনার কাছে মন্ত্রীর প্রটোকলে থাকা পুলিশের গাড়ি গর্তে পড়ে যায়। সেটি ঠেলে গর্ত থেকে তুলতে হয়। যোগাযোগমন্ত্রী দলবল নিয়ে ঢাকা থেকে গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হন দুপুর দুইটায়। মাওনা ঘুরে মহাখালী বাস টার্মিনালে ফিরে আসেন সন্ধ্যা সাতটার পর।
ঢাকা-ময়মনসিংহ পথে ছয় দিন এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল পথে চার দিন বাস চলাচল বন্ধ থাকার পর গতকাল রাতে মহাখালী বাস টার্মিনালে বাস চলার ঘোষণা দেন ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার এনায়েত উল্যাহ। সেখানে যোগাযোগমন্ত্রীর আগেই আসেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। দুই মন্ত্রীর অনুরোধে সমিতির নেতারা বাস চালাতে রাজি হন।
এ সময় যোগাযোগমন্ত্রী দাবি করেন, গত ১৫ বছরের মধ্যে এবার সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। সে জন্যই সড়ক এত খারাপ হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে পানিনিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে কিছু স্থাপনা করা হয়েছে। এ জন্য সড়কে পানি জমে থাকে। মন্ত্রী বলেন, এখনো সড়ক ঠিক হয়নি, তবে চলাচল করা যাবে। সাত দিন রোদ পেলেই মানুষের কষ্ট দূর হয়ে যাবে। সওজের যেসব কর্মকর্তা দায়িত্বে অবহেলা করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আজকের (বুধবার) মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান যোগাযোগমন্ত্রী।
মহাখালী বাস টার্মিনালে শাজাহান খান বলেন, ‘মালিক ও শ্রমিকের স্বার্থে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমরা অনেক কাজ করতে পারব। যোগাযোগমন্ত্রী আমাদের কথা শোনেন। তাই মালিক-শ্রমিকদের উচিত বাস চালানো।’
গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন গতকাল বেলা তিনটার দিকে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাসে আসেন। সাংবাদিকেরা তাঁর কাছে গেলে মন্ত্রী গাড়িতে বসেই জানালা দিয়ে কথা বলেন। সাংবাদিকেরা মন্ত্রীকে বেহাল সড়ক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার জন্য নেমে কিছুদূর হাঁটার প্রস্তাব দিলে তিনি নামেননি, বরং বিব্রত হন। এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘সড়কের দুরবস্থা নিয়ে আপনারা নিউজ করেছেন। দেশবাসী দেখেছে। এ জন্য দ্রুত সড়কের সংস্কার হচ্ছে।’
শ্রীপুর প্রতিনিধি জানান, ভোগড়া থেকে যোগাযোগমন্ত্রীর গাড়িবহর শ্রীপুরে যায় বিকেল চারটা ২০ মিনিটে। মাওনা হাইওয়ে থানার ১০০ গজ দক্ষিণে গর্তে পড়ে যাওয়া একটি ট্রাকের পেছনে মন্ত্রীর প্রটোকল দেওয়া পুলিশের গাড়িও আরেকটি গর্তে পড়ে যায়। সেই গাড়িটি ধাক্কা দিয়ে তোলার পর বিশেষ সতর্কতায় মন্ত্রীর গাড়িটি গর্ত অতিক্রম করে। মাওনাতেও মন্ত্রী গাড়িতে বসেই কথা বলেন। 
মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘জলাবদ্ধতার জন্য আপনাদের এলাকাবাসীকে অভিযুক্ত করছি। আপনারা এসব বিল্ডিং করতে দিচ্ছেন কেন? বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় সব ড্রেনেজ বন্ধ করে দিয়ে, সুয়ারেজ লাইন বন্ধ করে বিরাট বিরাট অফিস বিল্ডিং এবং কলকারখানা করা হয়েছে। সেদিন আপনারা কেন সোচ্চার হলেন না!’
এ সময় স্থানীয় মানুষ মন্ত্রীকে উদ্দেশ করে নানা রকম মন্তব্য করেন। মাওনা চৌরাস্তায় একটি দোকানের মালিক বলেন, ‘গাড়ির ভেতর থেকে জনগণকে দুষলে লাভ নেই। গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে দেখেন কার দোষ।’ স্থানীয় নাজমুল বলেন, ‘ঢাকা থেকে মাওনায় এসেছি চাকরি করতে। বেহাল সড়কের কারণে এখানেও শান্তি নাই। আমরা গার্মেন্টসে যেতে পারি না।’ এ কথা মন্ত্রী শুনে বলেন, ‘ঢাকা ছাড়লেন কেন?’ জবাবে নাজমুল বলেন, ‘আপনারাই তো তাড়িয়ে দিলেন ঢাকা থেকে।’ 
যোগাযোগমন্ত্রী আরও বলেন, সারা দেশের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারে ৬৯০ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ঈদের আগেই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে পিচ ঢালার কাজ শুরু হবে।


সূত্র:প্রথমআলো.কম, ১৭/০৮/২০১১

Leave a Reply

SM World