সাবেক রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। মারাত্মক হার্ট অ্যাটাক হয়েছে তাঁর। রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে তাঁকে লাইফ সাপোর্ট দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, এমন অবস্থা থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতির সেরে ওঠার সম্ভাবনা মাত্র ২০ শতাংশ।
ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের স্ত্রী অতীশ দিপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারা বেগম কালের কণ্ঠকে জানান, সাবেক রাষ্ট্রপতি গত বুধবার সকালে বুকে ব্যথা অনুভব করেন। এরপর গুলশানের বাসা থেকে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তাঁকে অ্যাপোলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর সিভিয়ার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ বর্তমানে কার্ডিওলজিস্ট ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধায়নে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন।


চিকিৎসকরা জানান, ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের রক্তচাপ অনেক কমে গেছে। মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলও অনেক কম। এ অবস্থায় ব্রেইন স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রক্তচাপ কম থাকার কারণে তাঁর সিটি স্ক্যান করা যাচ্ছে না।
ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে কি না জানার জন্য সিটি স্ক্যান করা হবে। এরপর করা হবে এনজিওগ্রাম। ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের ফুসফুসে পানি জমায় তিনি স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে পারছেন না। তাঁকে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস দেওয়া হচ্ছে।
ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ এ পর্যন্ত ১০ বার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। ১৯৯৪ সালে প্রথম তাঁর হার্ট অ্যাটাক হয়। রাষ্ট্রপতি থাকাকালে ২০০৬ সালে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে তাঁর বাইপাস সার্জারি করা হয়। এর পরও কয়েকবার তাঁর হার্ট অ্যাটাক হয়। বর্তমানে তাঁর বয়স ৮০ বছরের মতো। পারিবারিক সূত্র জানায়, ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের অসুস্থতার খবর পেয়ে ছেলে বাবু বুধবার রাতে ব্যাংকক থেকে ঢাকায় ফিরেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ২০০২ সালের সেপ্টেম্বরে বিএনপি সরকারের সময়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। ২০০৬ সালের অক্টোবরে অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিয়ে ব্যাপক সমালোচিত হন। পরে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে তিনি দেশে জরুরি আইন জারি করেন এবং প্রধান উপদেষ্টার পদ ছাড়েন।
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি পাওয়া ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। ১৯৯১ সালে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের খাদ্য ও সংস্কৃতি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সরকারি কর্মকমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান করেন এই অধ্যাপক।
ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ১৯৩১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মুন্সীগঞ্জ জেলার নয়াগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ১৯৯৫ সালে সরকার তাঁকে একুশে পদক দেয়। তিনি এক মেয়ে ও দুই ছেলের জনক।


সূত্র:কালেরকণ্ঠ, ১২/০৮/২০১১

Leave a Reply

SM World