শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, গৃহশিক্ষকতা ও কোচিং ব্যবসা শুধু শিক্ষা ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে না। এটা মেয়েদের নিরাপত্তাসহ সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, শিক্ষার জন্য ক্ষতিকর এ ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। তবে হুট করে প্রজ্ঞাপন জারি করে এটা বন্ধও করা সম্ভব হচ্ছে না।
গতকাল বৃহস্পতিবার ছায়া শিক্ষাব্যবস্থার মোকাবিলায় কোন ধরনের গৃহশিক্ষকতার জন্য কোন ধরনের সরকারি নীতি? শীর্ষক অনূদিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন। রাজধানীর জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম) মিলনায়তনে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (ইউনেসকো) ঢাকা।
হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের কমপারেটিভ এডুকেশন রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক মার্ক ব্রে ইংরেজি ভাষায় কনফ্রনটিং দ্য শ্যাডো এডুকেশন সিস্টেম: হোয়াট গভর্নমেন্ট পলিসিজ ফর হুয়াট প্রাইভেট টিউটরিং শীর্ষক বইটি লিখেছেন। বাংলায় এটি অনুবাদ করেছেন ব্র্যাক এডুকেশন রিসার্চ ইউনিটের সমন্বয়কারী সমীর রঞ্জন নাথ।
নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, গৃহশিক্ষকতা ও কোচিং ব্যবসা বাস্তবিক অর্থে ভয়াবহ সমস্যা। তবে এ ব্যবসা বন্ধ করার আগে শ্রেণীকক্ষে পড়ানোর পরিবেশ উন্নত করা, যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ করা, শিক্ষকদের বেতন বাড়ানো এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি বলেন, অবস্থা এমন হয়েছে যে শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাওয়ার আগে এবং স্কুল থেকে ফিরে আরেকবার কোচিংয়ে যাচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষকেরা শুধু কোচিং থেকেই লাখ লাখ টাকা আয় করছেন। অথচ একই শিক্ষক ক্লাসে ঠিকমতো পড়াচ্ছেন না। বিষয়টি খুবই লজ্জাজনক বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যারা কিছুটা পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থী তাদের জন্য সরকার শিক্ষককে অতিরিক্ত বেতন দিয়ে স্কুলেই অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। ঘণ্টাপ্রতি শিক্ষককে ১৭৫ টাকা করে দেওয়ার নিয়ম করে দিয়েছে। কেউ যদি অতিরিক্ত ক্লাস করতে না চায় তাহলে তাকে বাধ্য করা যাবে না বলা হয়েছে। তবে এ নিয়ম কেউ গ্রহণ করেনি।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী সরকারকে গৃহশিক্ষকতা ও কোচিং ব্যবসা বন্ধ করতে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
মূল বক্তব্যে মার্কে ব্রে বলেন, গৃহশিক্ষকতা বা কোচিং ব্যবসা শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, এটি বিশ্বব্যাপী জটিল সমস্যা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বল্প আয়ের দেশ কম্বোডিয়া ও কেনিয়ায় যেমন গৃহশিক্ষকতা আছে, তেমনি উচ্চ আয়ের দেশ কানাডা ও জাপানেও রয়েছে এ ব্যবস্থা।
মার্কে ব্রে আরও বলেন, বিশ্বুজড়ে বিনা মূল্যে শিক্ষার কথা বলা হলেও শিক্ষার পেছনেই বেশি খরচ হচ্ছে। তাঁর মতে, কোচিং ব্যবসা বন্ধে রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি। এ সমস্যা সমাধানে জনগণকে সম্পৃক্ত করে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনেসকো ঢাকার প্রধান ডেরেক ইলিয়াস।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে নায়েমের মহাপরিচালক শামসুর রহমান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মাহবুবুন নাহার, ব্র্যাকের শিক্ষা কর্মসূচির পরিচালক শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইউনেসকো জাতীয় কমিশনের সহকারী সচিব মো. মোকাদ্দেছ আলী ভূঁইয়া প্রমুখ বক্তব্য দেন।
সূত্র:প্রথমআলো.কম, ১৩/০৮/২০১১
গতকাল বৃহস্পতিবার ছায়া শিক্ষাব্যবস্থার মোকাবিলায় কোন ধরনের গৃহশিক্ষকতার জন্য কোন ধরনের সরকারি নীতি? শীর্ষক অনূদিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন। রাজধানীর জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম) মিলনায়তনে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (ইউনেসকো) ঢাকা।
হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের কমপারেটিভ এডুকেশন রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক মার্ক ব্রে ইংরেজি ভাষায় কনফ্রনটিং দ্য শ্যাডো এডুকেশন সিস্টেম: হোয়াট গভর্নমেন্ট পলিসিজ ফর হুয়াট প্রাইভেট টিউটরিং শীর্ষক বইটি লিখেছেন। বাংলায় এটি অনুবাদ করেছেন ব্র্যাক এডুকেশন রিসার্চ ইউনিটের সমন্বয়কারী সমীর রঞ্জন নাথ।
নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, গৃহশিক্ষকতা ও কোচিং ব্যবসা বাস্তবিক অর্থে ভয়াবহ সমস্যা। তবে এ ব্যবসা বন্ধ করার আগে শ্রেণীকক্ষে পড়ানোর পরিবেশ উন্নত করা, যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ করা, শিক্ষকদের বেতন বাড়ানো এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি বলেন, অবস্থা এমন হয়েছে যে শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাওয়ার আগে এবং স্কুল থেকে ফিরে আরেকবার কোচিংয়ে যাচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষকেরা শুধু কোচিং থেকেই লাখ লাখ টাকা আয় করছেন। অথচ একই শিক্ষক ক্লাসে ঠিকমতো পড়াচ্ছেন না। বিষয়টি খুবই লজ্জাজনক বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যারা কিছুটা পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থী তাদের জন্য সরকার শিক্ষককে অতিরিক্ত বেতন দিয়ে স্কুলেই অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। ঘণ্টাপ্রতি শিক্ষককে ১৭৫ টাকা করে দেওয়ার নিয়ম করে দিয়েছে। কেউ যদি অতিরিক্ত ক্লাস করতে না চায় তাহলে তাকে বাধ্য করা যাবে না বলা হয়েছে। তবে এ নিয়ম কেউ গ্রহণ করেনি।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী সরকারকে গৃহশিক্ষকতা ও কোচিং ব্যবসা বন্ধ করতে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
মূল বক্তব্যে মার্কে ব্রে বলেন, গৃহশিক্ষকতা বা কোচিং ব্যবসা শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, এটি বিশ্বব্যাপী জটিল সমস্যা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বল্প আয়ের দেশ কম্বোডিয়া ও কেনিয়ায় যেমন গৃহশিক্ষকতা আছে, তেমনি উচ্চ আয়ের দেশ কানাডা ও জাপানেও রয়েছে এ ব্যবস্থা।
মার্কে ব্রে আরও বলেন, বিশ্বুজড়ে বিনা মূল্যে শিক্ষার কথা বলা হলেও শিক্ষার পেছনেই বেশি খরচ হচ্ছে। তাঁর মতে, কোচিং ব্যবসা বন্ধে রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি। এ সমস্যা সমাধানে জনগণকে সম্পৃক্ত করে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনেসকো ঢাকার প্রধান ডেরেক ইলিয়াস।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে নায়েমের মহাপরিচালক শামসুর রহমান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মাহবুবুন নাহার, ব্র্যাকের শিক্ষা কর্মসূচির পরিচালক শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইউনেসকো জাতীয় কমিশনের সহকারী সচিব মো. মোকাদ্দেছ আলী ভূঁইয়া প্রমুখ বক্তব্য দেন।
সূত্র:প্রথমআলো.কম, ১৩/০৮/২০১১
Categories:
শিক্ষকতা