রাজধানীর পুরানা পল্টনে মিছিলে বাধা দিতে গেলে পুলিশকে মারধর করে নিষিদ্ধ হিযবুত তাহ্রীরের কর্মী�
রাজধানীর পুরানা পল্টনে মিছিলে বাধা দিতে গেলে পুলিশকে মারধর করে নিষিদ্ধ হিযবুত তাহ্রীরের কর্মীরা
ছবি: প্রথম আলো
আগে থেকে ঘোষণা দিয়ে রাজধানীর পুরানা পল্টনে বিক্ষোভ-মিছিল করেছে নিষিদ্ধঘোষিত উগ্রপন্থী সংগঠন হিযবুত তাহ্রীর, বাংলাদেশ। মিছিলে বাধা দিতে গেলে পুলিশের ওপর হামলা চালান হিযবুতের কর্মীরা। এতে দুই কর্মকর্তাসহ সাত পুলিশ আহত হন।
এ সময় পুলিশের লাঠিপেটায় নিষিদ্ধ সংগঠনটিরও কয়েকজন আহত হন এবং ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, গতকাল দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটের দিকে পুরানা পল্টনের কস্তুরি হোটেলের পাশ থেকে সংগঠনের প্রায় ৫০ জনের একটি দল কালো ও গাঢ় কমলা রঙের ব্যানার নিয়ে মিছিল বের করে। তারা মুক্তাঙ্গনের দিকে এগোতে থাকে। পুরানা পল্টন মোড়ে পৌঁছানোর আগেই পুলিশ ধাওয়া করলে মিছিলকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে আশপাশের গলিতে ঢুকে যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই সংগঠিত হয়ে হিযবুতের কর্মীরা পুরানা পল্টনের দারুস সালাম আর্কেডের গলি থেকে আবার মিছিল বের করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। তখন হিযবুতের কর্মীরাও পুলিশের ওপর আক্রমণ করেন। তাঁদের কিল-ঘুষি, ইটের টুকরা নিক্ষেপ ও লাঠির আঘাতে সাত পুলিশ আহত হন।

মহানগর পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ হাজ্জাতের অবস্থা গুরুতর। তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং উপপরিদর্শক জসিম উদ্দিনকে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী একজন চা-দোকানি জানান, একজন কর্মীকে ধরতে গেলে হিযবুত তাহ্রীরের কর্মীরা লাঠি দিয়ে পুলিশের পরিদর্শক হাজ্জাতের মাথায় আঘাত করেন। এরপর তাঁকে উপর্যুপরি কিল-ঘুষি মারতে থাকেন।
পরে আরও পুলিশ-সদস্য গিয়ে লাঠিপেটা করেন এবং সেখান থেকে ১৪ জনকে আটক করেন। তাঁরা হলেন: রাদি শফিক (২২), মনিরুল ইসলাম ওরফে পিয়াস (২০), জামিলুর রহমান (২০), সাব্বির আহমেদ ওরফে আকাশ (২১), শাহাবুদ্দিন (২৭), শরীফ শাহ মিরাজ (২৭), আসিফ রহমান (১৮), সৈয়দ জাইম আবদুল্লাহ (১৯), কে এম সাইয়েদুল ইসলাম (২২), আহমেদ নিজাম (২৩), শাফায়েত উল্লাহ ওরফে শাওন (১৭), হাবিবুর রহমান (৩৫), মো. ফয়সাল (২২) ও আশিকুর রহমান (২২)।
 তাঁদের মধ্যে আটকের সময় শাহাবুদ্দিন নিজেকে হকার বলে দাবি করেন। এ ছাড়া কে এম সাইয়েদুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি হিযবুত তাহ্রীরের সঙ্গে জড়িত নন। ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার মধ্যে পড়েন এবং পুলিশ সন্দেহমূলক তাঁকে আটক করেছে। সাইয়েদুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের স্নাতক শেষ বর্ষের ছাত্র।
একই সময়ে হিযবুত তাহ্রীরের অন্য একটি দল তোপখানা রোডের মেহেরবা প্লাজার পাশ থেকে মিছিল নিয়ে পল্টন মোড়ের দিকে আসার চেষ্টা করে। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। সেখান থেকে জাহিদুল ইসলাম (২৯) ও জাহিদ উদ্দিন ওরফে মিলনকে (৪২) পুলিশ আটক করে।
হিযবুত তাহ্রীর গতকালের এ কর্মসূচি ঘোষণা করে গত ২৭ জুলাই। কর্মসূচি উপলক্ষে তিন সপ্তাহ ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেয়ালে লিখে, পোস্টার সাঁটিয়ে ও প্রচারপত্র বিলি করে প্রচারণা চালায়। এ ছাড়া রোজার মধ্যে প্রথম দুই শুক্রবার জুমার নামাজের পর নগরের বিভিন্ন মহল্লায় ছোট মিছিল করে এবং সেসব মিছিলের ছবি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিসহ গণমাধ্যমেও পাঠিয়েছে।
সংগঠনটির কর্মসূচি মোকাবিলায় গতকাল সকাল থেকেই পুরানা পল্টন, বিজয়নগর, জাতীয় প্রেসক্লাবসহ আশপাশের এলাকায় রায়ট কার, ভ্যান, জলকামানসহ বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। র‌্যাব-৩-এর একটি দলও ওই এলাকায় টহল দেয়। তার পরও পুলিশ ও গোয়েন্দাদের নজরদারি এড়িয়ে হিযবুত তাহ্রীরের কর্মীরা মিছিল বের করেন।
ঘটনাস্থলে পুলিশের রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারা (হিযবুত তাহ্রীর) পাবলিকের সঙ্গে মিশে হঠাৎ মিছিল বের করে। পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।’

From: ProthomAlo.com,14/08/2011

Categories:

Leave a Reply

SM World