লন্ডনের পাঁচপুরুষের আদি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘হাউস অব রিভস’। ১৮৬৭ সালে নিজের শ্যালক আর সন্তানকে নিয়ে এডউইন রিভস দক্ষিণ লন্ডনের ক্রয়ডন চার্চ স্ট্রিটে শুরু করেছিলেন ফার্নিচারের ব্যবসা। বংশপরম্পরায় ১৪৪ বছরের ব্যবসায়িক সুনাম, পারিবারিক সহমর্মিতা ও সাফল্য বিলেতে আসবাবপত্র ব্যবসায় হাউস অব রিভসকে এনে দিয়েছে অনন্য
পরিচিতি। নানা চড়াই-উতরাই, পর পর দুটি বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও টিকে ছিল রিভস পরিবারের ব্যবসা আর ক্রয়ডনের ঐতিহ্য। কিন্তু গত সোমবার লন্ডনের দাঙ্গা-হাঙ্গামায় পুড়ে ভস্ম হয়েছে শতাব্দীপ্রাচীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হাউস অব রিভস।
নাশকতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লন্ডনসহ বিভিন্ন শহরের বহু প্রতিষ্ঠান, যানবাহন. সন্তান; স্বজন হারিয়েছে কয়েকটি পরিবার। লন্ডনের পরিস্থিতি অনেকটা সামলে নিয়েছে পুলিশ। কিন্তু ভুক্তভোগীরা কীভাবে সামলাবেন তাঁদের হারানোর কষ্ট? বারবার আলোচনায় আসা ভস্মীভূত হাউস অব রিভসের সামনে দাঁড়িয়েই কথা হয় স্থানীয় সমাজকর্মী জেপলিন রসের (৩৭) সঙ্গে। বললেন, কী বীভৎস পরিস্থিতি! রিভস পরিবার শুধুই কি তাঁদের স্থাপনাটিই হারিয়েছেন? আমরা হারিয়েছি চিরচেনা রিভস কর্নার। 
তিল তিল করে গড়া হাউস অব রিভসের বর্তমান কর্ণধার মরিস রিভস (৫৬) প্রতিক্রিয়ায় জানালেন, ‘বলার মতো আর কিছু নেই। চোখের সামনে জ্বলতে দেখতে হবে পূর্বপুরুষের হাতে গড়া স্মৃতিচিহ্ন কোনো দিন কল্পনায়ও আসেনি। মা-বাবা হারানো সন্তানের মতো সবকিছু হারিয়ে আমরাও অনাথ হয়ে গেছি। আমাদের পরিবার ছাড়াও আরও ১৫ থেকে ২০টি পরিবারের মানুষ প্রতিষ্ঠানটির ওপর নির্ভরশীল ছিল। এ ক্ষত শুকানোর নয়, যত দিন বেঁচে থাকব বয়ে নিয়ে বেড়াতে হবে।’
হাউস অব রিভসের অগ্নিকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২১ বছরের এক যুবককে।

সূত্র:প্রথমআলো.কম, ১৩/০৮/২০১১

Categories:

Leave a Reply

SM World