স্কুল শিক্ষার্থীদের গৌরববোধ
বাংলাদেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার সবগুলো মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে নতুন একটি বিষয় বাধ্যতামূলকভাবে পড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
‘বাংলাদেশ স্টাডিজ’ নামে এই বিষয়ের ওপর এখন বই প্রণয়নের কাজ চলছে যেটি আগামী শিক্ষাবছর থেকে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যম এবং মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত পড়ানো হবে।
তবে দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলো এর আওতায় থাকছে না।
নতুন পাঠক্রমে থাকছে আলিয়া মাদ্রাসা
বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, মূলত: বাংলাদেশে ধর্মীয়, ইংরেজি এবং বাংলা - প্রচলিত এই তিন মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশ বিষয়ক জ্ঞান যাতে একীভূতভাবে ছড়িয়ে দেয়া যায় সেজন্য সম্পূর্ণ নতুন পাঠ্ক্রম তৈরি করা হচ্ছে৻
১ম থেকে ১০ম পর্যন্ত প্রত্যেক শ্রেণীতে সব মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য এই বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে৻
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলছেন, ‘‘বিষয়টির নাম হবে বাংলাদেশ স্টাডিজ। এর মধ্যে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, মানুষের আশা আকাঙ্খা---সব কিছু মিলে তারা যাতে বাংলাদেশ সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা পেতে পারে, দেশের সঠিক ইতিহাস জানতে পারে, তাদের মধ্যে যাতে একটা গৌরববোধ জাগতে পারে - এই লক্ষ্যে যে বই আমরা ছাপবো সেটি আমার মাদ্রাসায় বাধ্যতামূলক করবো, বাংলা মাধ্যমেও করবো, ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলেও করবো৻’’
মি. ইসলাম জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই ষষ্ঠ, ৭ম ও ৮ম, এই তিন শ্রেণীতে পড়ানো শুরু হবে নতুন এই বিষয়।
একই সাথে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষাক্রম আধুনিক করার একটা উদ্যোগের কথাও শিক্ষামন্ত্রী বলেন৻
এর অংশ হিসেবে মাদ্রাসায় কম্পিউটার কিংবা কারিগরি শিক্ষার মতো বাস্তব জ্ঞানভিত্তিক বিষয়গুলো পড়ানো শুরু করার, এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নতুন করে প্রশিক্ষণ দেয়ার কথা বলছেন নুরুল ইসলাম নাহিদ।
বাদ পড়ছে কওমি মাদ্রাসা৻
তবে এই সুযোগ শুধু পাবে সরকার-স্বীকৃত আলিয়া মাদ্রাসাগুলো।
এর বাইরে আরো যে অন্তত ৫০০০ কওমি মাদ্রাসা রয়েছে সেগুলি এই আধুনিকায়নের আওতায় আসছে না।
ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হবে কি না? এই প্রশ্নের জবাবে বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে মি. ইসলাম বলেন, বঞ্চিত হওয়ার এ দায় তাদেরই।
‘‘এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালকেরাই ঠিক করে দেবেন তারা কত দ্রুত এটার সাথে সম্পৃক্ত হবেন। তারা যেন দ্রুত এ বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দেয় সেটা আমরা বলেছি।‘‘
কওমি মাদ্রাসাগুলোর অভিভাবক সংস্থা, বাংলাদেশ কওমী মাদ্রাসা বোর্ডের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল জলিল বিবিসিকে বলেন, ``আমাদের সঙ্গে সবসময়েই বিমাতাসুলভ আচরণ করা হয়েছে। এখনো তা হচ্ছে‘‘।
বাংলাদেশে অন্তত ৩ কোটি ২০ লাখ ছাত্র-ছাত্রী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা লাভ করছে - এর মধ্যে অন্তত ৫০ লাখ পড়ছে সরকার স্বীকৃত মাদ্রাসাগুলোতে।
কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী সংখ্যা কত সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা না পাওয়া গেলেও কওমি মাদ্রাসা বোর্ড বলছে এই সংখ্যা ১০ লাখেরও বেশী।
ধর্মীয় এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কট্টর ইসলামপন্থার চর্চ্চা হয়, এমন একটি সমালোচনা বিভিন্ন মহল থেকে নানা সময়ে উঠেছে।
Categories:
Education