বার্সেলোনা ৩: ১ ম্যানইউ
রোম থেকে লন্ডন। অলিম্পিক স্টেডিয়াম থেকে ওয়েম্বলি। ২০০৯ থেকে ২০১১। স্থান-কাল সবই পাল্টেছে, কিন্তু পাল্টাল না একটা ছবি। এবারও চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ বাঁশি ঘোষণা করল সুন্দর ফুটবলের জয়গান। ঘোষিত হলো বার্সেলোনার শ্রেষ্ঠত্ব। কাল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে চতুর্থ চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জিতল স্পেনের বার্সেলোনা।
দুই বছর আগে ২ গোলের ব্যবধানে হেরেছিল অ্যালেক্স ফার্গুসনের দল। কালও ব্যবধান একই। পার্থক্য, এবার একটি গোল বার্সার জালে দিতে পারল ম্যানইউ। কিন্তু ৩৪ মিনিটে করা ওয়েইন রুনির গোল একমাত্র সান্ত্বনা হয়ে রইল তাদের জন্য। ২৭ মিনিটে প্রথম গোলটি করেছিলেন পেদ্রো। এর ঠিক ২৭ মিনিট বাদে লিওনেল মেসি গোল করে ছুঁয়ে ফেললেন এক আসরে ১২ গোল করা রুড ফন নিস্টলরয়ের রেকর্ড। আর ৬৯ মিনিটে গোল করে টেমস নদীতে ম্যানইউয়ের শেষ আশার সমাধি বানিয়ে দিলেন ডেভিড ভিয়া।
ম্যাচের শুরুতেও যেন ‘২০০৯’। ম্যানইউর দুর্দান্ত দাপট। এবার প্রথম ১০ মিনিটে বার্সার ওপর চড়াও হয়ে খেলল তারা। একের পর এক আক্রমণ। কিন্তু ১০ মিনিট পেরোতেই আবারও ম্যাচের লাগাম পুরো বার্সার মুঠোয়। পরিস্থিতি সামাল দিতেই যেন ২৫ মিনিটে গ্যালারির আসন থেকে ডাগ আউটে নেমে এলেন অ্যালেক্স ফার্গুসন। কিন্তু দুই মিনিট পরই তাঁকে আবার নিজ আসনে ফেরত পাঠিয়ে দিল এবারের আসরে পেদ্রোর পঞ্চম গোল। জাভির এগিয়ে দেওয়া পাস থেকে বক্সের ডানে নেওয়া তাঁর জোরালো শট ফন ডার সারকে বানিয়ে দিল অসহায় দর্শক।
দ্রুতই ম্যাচে ফিরে আসে ম্যানইউ। সাত মিনিটের মধ্যে বার্সার রক্ষণের ছোট্ট একটা ভুলের মাশুল তোলেন রুনি। কিন্তু ম্যাচে একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রাখা বার্সার জয়টা যেন ছিল নিয়তি-নির্ধারিত। ২০ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত শটে গোল করে ‘অ-মেসিসুলভ’ উল্লাসে মেতেছেন খুদে জাদুকর। গত সাত ম্যাচে বার্সার হয়ে গোল করতে পারেননি। ভিয়া যেন এই ম্যাচের জন্যই জমিয়ে রেখেছিলেন তাঁর সেই ভুবন ভোলানো গোলটি।
কতটা আধিপত্য ছিল পেপ গার্দিওলার দলের? ৭০ শতাংশ বল পজেশন তো তাদের অভ্যাস। চোখে পড়ার মতো তথ্য হলো ম্যানইউর গোলে নেওয়া ২২টি শট, তার ১২টিই ছিল লক্ষ্যে এবং জীবনের শেষ ম্যাচ খেলতে নামা ফন ডার সার বাধার দেয়াল তুলে না দাঁড়ালে গোলের সংখ্যা আরও বাড়ত নির্ঘাৎ। অন্যদিকে সব মিলিয়ে চারটি শট নিয়েছে ম্যানইউ, লক্ষ্যে শট একটিই—রুনির সেই গোল।
ম্যাচে বার্সার একটাই অপূর্ণতা ছিল—পুয়োলের অনুপস্থিতি। শেষ পাঁচ মিনিটে মাঠে নেমে নিয়মিত অধিনায়ক সেই অপূর্ণতাও মুছেছেন। ২০০৯-এ রোমে শিরোপা উঠেছিল তাঁর হাতে। ওয়েম্বলিতেও মিলল সেই ছবি। অজস্র কনফেত্তির ওড়াউড়ির মধ্যে উড়ল এই প্রশ্নও—এই বার্সা কি সর্বকালের সেরা দলগুলোর একটি নয়?
সূত্র: প্রথম আলো, ২৯ মে ২০১১ইং
Categories:
খেলা
