রাজধানীতে নতুন আতঙ্ক কলিংবেল পার্টি। এ পার্টির শতাধিক সদস্য সক্রিয়। কলিংবেল টিপে বাড়িতে ঢুকে সর্বস্ব লুটে নেয় তারা। বাধা এলে খুন করতেও দ্বিধা করে না। সমপ্রতি কলিংবেল পার্টির দলনেতা রাসেল ওরফে ডাক্তার রাসেলকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর
সব তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ বলছে, চক্রের শতাধিক সদস্য রাজধানীতে সক্রিয়। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. সোলায়মান বলছেন, রাজধানীর মিরপুর, পল্লবী, শাহআলী ও মোহাম্মদপুর এলাকায় কলিংবেল পার্টির দৌরাত্ম্য সবচেয়ে বেশি। গত সেপ্টেম্বরে মোহাম্মদপুরে এক সেনা কর্মকর্তার বাসায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে কলিংবেল পার্টির সন্ধান পায় গোয়েন্দা পুলিশ। এ চক্রের সদস্যরা টার্গেটকৃত বাড়ি সম্পর্কে বেশ কিছুদিন ধরে তথ্য সংগ্রহ করে। এজন্য তারা ছদ্মবেশ ধরে। কখনও ফকিরের বেশে, কখনও হকার সেজে তারা এলাকায় ঘুরে ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করে। এসময় তারা অস্ত্রও বহন করে। এছাড়া পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে তারা ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করে। আর অপারেশন চালানোর জন্য তারা দিনের বেলা বা সন্ধ্যার সময়টাকে বেছে নেয়। মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের ১৯/১২নং বাড়ির দোতলায় সপরিবারে থাকেন সেনাবাহিনীর মেজর নুরুল ইসলাম। গত ৯ই সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কলিংবেল পার্টির সদস্যরা ওই বাড়িতে ডাকাতি করে। তারা ওই বাড়ি থেকে নগদ প্রায় দেড় লাখ টাকা ও ২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুটে নেয়। এছাড়া বাড়ি থেকে মোবাইল ফোন সেট, ভিডিও ক্যামেরাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়। সন্ধ্যার দিকে দোতলায় উঠে তারা বাসার কলিংবেল টেপে। নূরুল ইসলামের স্ত্রী দরজা খোলেন। এ সময় ডাকাতরা তাকে বলেন, পুলিশ তাড়া করেছে বলে তারা আশ্রয়ের সন্ধান করছে। এ কথা বলেই বাড়ির ভেতর হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ে তারা। এরপর বাসার সদস্যদের অস্ত্র উঁচিয়ে জিম্মি করে তাদের হাত-পা বেঁধে মালামাল লুটে নিয়ে পালিয়ে যায়। গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, জিজ্ঞাসাবাদে ডাকাতরা বলেছে ফ্ল্যাটে ঢোকার জন্য কখনও তারা পুলিশ তাড়া করেছে, কখনও র্যাব বা প্রতিপক্ষ তাড়া করেছে বলে গল্প ফাঁদে। এরপর বাড়িতে ঢুকে তারা ডাকাতি শুরু করে। গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, কলিংবেল পার্টির বেশির ভাগ সদস্য ঢাকার আশপাশে যেমন সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর এলাকায় থাকে। তাদের ২-১ জন সদস্য রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন বাসা বাড়ি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। কলিংবেল পার্টির অন্যতম সদস্য কানা শামীম ওরফে মাসুদ ভিক্ষুক বেশে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। তার কাছে একটা ঝোলা থাকে। ওই ঝোলায় থাকে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র। যেসব বাড়ির প্রধান ফটক সন্ধ্যায় বা দিনের বেলায় খোলা থাকে সেসব বাড়ি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে শামীম। এভাবে কোন একটি বাড়িকে টার্গেট করার পর দলনেতা রাসেলকে খবর দেয়া হয়। রাসেল অভিযানের দিন ঠিক করে। এরপর ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে দলের সদস্যরা ওই বাড়ির সামনে নির্দিষ্ট দিন হাজির হতে শুরু করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সুবিধাজনক সময়ে কোন একটি ফ্ল্যাটের কলিংবেল টিপে ঢুকে পড়ে তারা। ফ্ল্যাটে ঢুকেই তারা সব দরজা জানালা লাগিয়ে দেয়। পর্দা টেনে দেয়- যাতে বাইরে থেকে কেউ কিছু বুঝতে না পারে। একই সঙ্গে ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের হাত-পা বেঁধে মালামাল লুটে নেয়। গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, গত ৯ই সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের মেজর নুরুল ইসলামের বাসায় ডাকাতির পর এলাকায় সোর্স লাগানো হয়। গ্রেপ্তার করা হয় দলের সক্রিয় সদস্য কাঞ্চনকে মিরপুরের পীরেরবাগ থেকে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিরপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আরেক সদস্য শামীমকে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় রাজা খলিফাকে। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তারা তাদের দলনেতা রাসেল ওরফে ডাক্তার ওরফে মনির ওরফে সুমনের নাম বলে। পরে রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয় সাভারের মজিদপুরের একটি ভাড়া বাসা থেকে। সে জানায়, ডাকাতির পর সব টাকা তারা ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়েছে। তার ভাগের আড়াই লাখ টাকা দিয়ে সে একটি ফেজার মোটরসাইকেল কিনেছে। মোটরসাইকেলটি জব্দ করেছে পুলিশ। এছাড়া তার কাছ থেকে ওই বাড়ি থেকে লুটে নেয়া একটি মোবাইল ফোনসেট ও একটি ভিডিও ক্যামেরা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, চক্রের গ্রেপ্তারকৃত ৪ সদস্যের মধ্যে কাঞ্চন নামের এক সদস্য ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বাকি ৩ জনকে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে শনাক্তকরণ মহড়ার মাধ্যমে শনাক্ত করেছেন মামলার বাদী। পুলিশ জানায়, এ চক্রের সদস্যরা সব সময়ই নিজেদের আড়াল করতে বাইরে ধর্মের অনুশাসনের কথা বলে বেড়ায়। কথায় কথায় ইসলামের নানা বাণী উচ্চারণ করে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা দুর্ধর্ষ ডাকাত দলের সদস্য এবং ভয়ঙ্কর অপরাধী। সাধারণ মানুষের চোখে ধুলো দেয়ার জন্য এ ধরনের কৌশল অবলম্বন করে তারা। এছাড়া কোন এলাকাতেই তারা বেশি দিন বাস করে না। ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করে। গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, এদের ব্যক্তিগত জীবন উচ্ছৃঙ্খল। একেক জন ৪-৫টি বিয়ে করে। পারিবারিক জীবন বলতে তাদের তেমন কিছু নেই। এছাড়া ডাকাতির অর্থ তারা নেশার কাজে ব্যয় করে। এ চক্রের বেশির ভাগ সদস্য নগরীতে ভাসমান অবস্থায় বেড়ে উঠেছে। ছিনতাই করতে করতে একপর্যায়ে তারা কলিংবেল পার্টি গঠন করে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. সোলায়মান এ চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারে নেতৃত্ব দিয়েছেন। গতকাল তিনি মানবজমিনকে বলেন, কলিংবেল পার্টির ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। এ চক্রের অন্য সদস্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, কলিংবেল চক্রের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অবশ্য বাসার দরজা লাগিয়ে রাখতে হবে। ডোরভিউ ব্যবহার করতে হবে। আগন্তুককে ডোরভিউ দিয়ে দেখে তার পরিচয় নিশ্চিত হয়েই দরজা খুলতে হবে। তিনি বলেন, এছাড়া অপরিচিত লোক সম্পর্কে বাড়ির নিরাপত্তা প্রহরী বা দারোয়ানকে সতর্ক করে রাখতে হবে। এ সঙ্গে অপরিচিত ৪-৫ জন লোক বাড়িতে এলে দরজা না খুলে বাইরে থেকেই তাদের উদ্দেশ্য জানার চেষ্টা করতে হবে। সন্দেহ হলে দ্রুত পুলিশে খবর দিতে হবে।
তোহুর আহমদ, মানবজমিন, ২৩/১২/২০১১
সব তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ বলছে, চক্রের শতাধিক সদস্য রাজধানীতে সক্রিয়। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. সোলায়মান বলছেন, রাজধানীর মিরপুর, পল্লবী, শাহআলী ও মোহাম্মদপুর এলাকায় কলিংবেল পার্টির দৌরাত্ম্য সবচেয়ে বেশি। গত সেপ্টেম্বরে মোহাম্মদপুরে এক সেনা কর্মকর্তার বাসায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে কলিংবেল পার্টির সন্ধান পায় গোয়েন্দা পুলিশ। এ চক্রের সদস্যরা টার্গেটকৃত বাড়ি সম্পর্কে বেশ কিছুদিন ধরে তথ্য সংগ্রহ করে। এজন্য তারা ছদ্মবেশ ধরে। কখনও ফকিরের বেশে, কখনও হকার সেজে তারা এলাকায় ঘুরে ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করে। এসময় তারা অস্ত্রও বহন করে। এছাড়া পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে তারা ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করে। আর অপারেশন চালানোর জন্য তারা দিনের বেলা বা সন্ধ্যার সময়টাকে বেছে নেয়। মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের ১৯/১২নং বাড়ির দোতলায় সপরিবারে থাকেন সেনাবাহিনীর মেজর নুরুল ইসলাম। গত ৯ই সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কলিংবেল পার্টির সদস্যরা ওই বাড়িতে ডাকাতি করে। তারা ওই বাড়ি থেকে নগদ প্রায় দেড় লাখ টাকা ও ২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুটে নেয়। এছাড়া বাড়ি থেকে মোবাইল ফোন সেট, ভিডিও ক্যামেরাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়। সন্ধ্যার দিকে দোতলায় উঠে তারা বাসার কলিংবেল টেপে। নূরুল ইসলামের স্ত্রী দরজা খোলেন। এ সময় ডাকাতরা তাকে বলেন, পুলিশ তাড়া করেছে বলে তারা আশ্রয়ের সন্ধান করছে। এ কথা বলেই বাড়ির ভেতর হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ে তারা। এরপর বাসার সদস্যদের অস্ত্র উঁচিয়ে জিম্মি করে তাদের হাত-পা বেঁধে মালামাল লুটে নিয়ে পালিয়ে যায়। গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, জিজ্ঞাসাবাদে ডাকাতরা বলেছে ফ্ল্যাটে ঢোকার জন্য কখনও তারা পুলিশ তাড়া করেছে, কখনও র্যাব বা প্রতিপক্ষ তাড়া করেছে বলে গল্প ফাঁদে। এরপর বাড়িতে ঢুকে তারা ডাকাতি শুরু করে। গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, কলিংবেল পার্টির বেশির ভাগ সদস্য ঢাকার আশপাশে যেমন সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর এলাকায় থাকে। তাদের ২-১ জন সদস্য রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন বাসা বাড়ি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। কলিংবেল পার্টির অন্যতম সদস্য কানা শামীম ওরফে মাসুদ ভিক্ষুক বেশে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। তার কাছে একটা ঝোলা থাকে। ওই ঝোলায় থাকে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র। যেসব বাড়ির প্রধান ফটক সন্ধ্যায় বা দিনের বেলায় খোলা থাকে সেসব বাড়ি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে শামীম। এভাবে কোন একটি বাড়িকে টার্গেট করার পর দলনেতা রাসেলকে খবর দেয়া হয়। রাসেল অভিযানের দিন ঠিক করে। এরপর ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে দলের সদস্যরা ওই বাড়ির সামনে নির্দিষ্ট দিন হাজির হতে শুরু করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সুবিধাজনক সময়ে কোন একটি ফ্ল্যাটের কলিংবেল টিপে ঢুকে পড়ে তারা। ফ্ল্যাটে ঢুকেই তারা সব দরজা জানালা লাগিয়ে দেয়। পর্দা টেনে দেয়- যাতে বাইরে থেকে কেউ কিছু বুঝতে না পারে। একই সঙ্গে ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের হাত-পা বেঁধে মালামাল লুটে নেয়। গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, গত ৯ই সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের মেজর নুরুল ইসলামের বাসায় ডাকাতির পর এলাকায় সোর্স লাগানো হয়। গ্রেপ্তার করা হয় দলের সক্রিয় সদস্য কাঞ্চনকে মিরপুরের পীরেরবাগ থেকে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিরপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আরেক সদস্য শামীমকে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় রাজা খলিফাকে। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তারা তাদের দলনেতা রাসেল ওরফে ডাক্তার ওরফে মনির ওরফে সুমনের নাম বলে। পরে রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয় সাভারের মজিদপুরের একটি ভাড়া বাসা থেকে। সে জানায়, ডাকাতির পর সব টাকা তারা ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়েছে। তার ভাগের আড়াই লাখ টাকা দিয়ে সে একটি ফেজার মোটরসাইকেল কিনেছে। মোটরসাইকেলটি জব্দ করেছে পুলিশ। এছাড়া তার কাছ থেকে ওই বাড়ি থেকে লুটে নেয়া একটি মোবাইল ফোনসেট ও একটি ভিডিও ক্যামেরা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, চক্রের গ্রেপ্তারকৃত ৪ সদস্যের মধ্যে কাঞ্চন নামের এক সদস্য ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বাকি ৩ জনকে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে শনাক্তকরণ মহড়ার মাধ্যমে শনাক্ত করেছেন মামলার বাদী। পুলিশ জানায়, এ চক্রের সদস্যরা সব সময়ই নিজেদের আড়াল করতে বাইরে ধর্মের অনুশাসনের কথা বলে বেড়ায়। কথায় কথায় ইসলামের নানা বাণী উচ্চারণ করে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা দুর্ধর্ষ ডাকাত দলের সদস্য এবং ভয়ঙ্কর অপরাধী। সাধারণ মানুষের চোখে ধুলো দেয়ার জন্য এ ধরনের কৌশল অবলম্বন করে তারা। এছাড়া কোন এলাকাতেই তারা বেশি দিন বাস করে না। ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করে। গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, এদের ব্যক্তিগত জীবন উচ্ছৃঙ্খল। একেক জন ৪-৫টি বিয়ে করে। পারিবারিক জীবন বলতে তাদের তেমন কিছু নেই। এছাড়া ডাকাতির অর্থ তারা নেশার কাজে ব্যয় করে। এ চক্রের বেশির ভাগ সদস্য নগরীতে ভাসমান অবস্থায় বেড়ে উঠেছে। ছিনতাই করতে করতে একপর্যায়ে তারা কলিংবেল পার্টি গঠন করে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. সোলায়মান এ চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারে নেতৃত্ব দিয়েছেন। গতকাল তিনি মানবজমিনকে বলেন, কলিংবেল পার্টির ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। এ চক্রের অন্য সদস্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, কলিংবেল চক্রের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অবশ্য বাসার দরজা লাগিয়ে রাখতে হবে। ডোরভিউ ব্যবহার করতে হবে। আগন্তুককে ডোরভিউ দিয়ে দেখে তার পরিচয় নিশ্চিত হয়েই দরজা খুলতে হবে। তিনি বলেন, এছাড়া অপরিচিত লোক সম্পর্কে বাড়ির নিরাপত্তা প্রহরী বা দারোয়ানকে সতর্ক করে রাখতে হবে। এ সঙ্গে অপরিচিত ৪-৫ জন লোক বাড়িতে এলে দরজা না খুলে বাইরে থেকেই তাদের উদ্দেশ্য জানার চেষ্টা করতে হবে। সন্দেহ হলে দ্রুত পুলিশে খবর দিতে হবে।
তোহুর আহমদ, মানবজমিন, ২৩/১২/২০১১