ব্যবসায়ী মাসুমকে হাতিরপুল থেকে ধরে নেওয়ার পর র্যাব কার্যালয়, থানা ও হাসপাতালসহ ১৪টি স্থানে খুঁজেছেন স্বজনেরা। কিন্তু ১৮ দিনেও খোঁজ মেলেনি।
শুধু মাসুম নন, এ রকম ১৬ জনের খোঁজে স্বজনেরাও মাসের পর মাস এখানে-সেখানে ঘুরছেন। মানবাধিকার সংস্থাসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকা থেকে ২৭ জন নিখোঁজ
হয়েছেন। এঁদের মধ্যে ১১ জনের লাশ পাওয়া গেছে। স্বজনদের অভিযোগ, এঁরা গুপ্তহত্যার শিকার। এঁদের প্রায় সবাইকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোক পরিচয়ে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে র্যাবের মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, কাউকে ধরে নেওয়া কিংবা অপহরণের সঙ্গে র্যাবের কোনো সদস্য জড়িত নন। অপরাধীরা এ ঘটনা ঘটিয়ে র্যাবের নাম ব্যবহার করতে পারে। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত র্যাব অনেক অপহূত ব্যক্তিকে উদ্ধার এবং অপহরণকারীদের গ্রেপ্তার করেছে।
গত ৮ এপ্রিল পুরান ঢাকার সদরঘাটের কালার প্লাস নামের একটি তৈরি পোশাক কারখানার মালিক তারিকউদ্দিন আহমেদ নিখোঁজ হন। সূত্রাপুরের ফরাশগঞ্জ ক্লাব কমিউনিটি সেন্টারের সামনে থেকে সাদা পোশাকের লোক সাদা মাইক্রোবাসে তুলে তাঁকে নিয়ে যায়। সূত্রাপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও খোঁজ মেলেনি তাঁর।
গতকাল বিকেলে পুরান ঢাকার হেমেন্দ্র দাস রোডের বাসায় কথা বলতে বলতে তারিকের বৃদ্ধ বাবা আজহার আলী কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘তারিক গার্মেন্টসের ব্যবসা করত। সে রাজনীতি করত না, বিয়েও করেনি।’ তিনি জানান, বিভিন্ন পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন, তাঁর ব্যবসায়ী প্রতিপক্ষ র্যাবকে ব্যবহার করে তারিককে অপহরণ করেছে। দুই মাস আগে ফোন করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মামলা কেন করেননি—জানতে চাইলে আজহার বলেন, ‘কার বিরুদ্ধে মামলা করব? সরকারের বিরুদ্ধে কি মামলা করা যায়?’
গত ২৮ নভেম্বর রাতে রাজধানীর হাতিরপুল এলাকা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও সূর্য সেন হল ছাত্রদলের সাহিত্য ও গবেষণা সম্পাদক শামীম হাসান, ৫০ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি ইসমাইল হোসেন ওরফে আল আমিন ও তাঁদের বন্ধু মাসুম হোসেনকে। এ বিষয়ে কলাবাগান থানায় দুটি জিডি করা হয়। গত বৃহস্পতিবার মুন্সিগঞ্জের ধলেশ্বরী নদীতে ইসমাইল হোসেনের মাথায় গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায়। শামীম ও মাসুম এখনো নিখোঁজ।
মাসুমের স্ত্রী হাওয়া বেগম গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ১৮ দিন আগে র্যাবের লোক পরিচয়ে সাদা পোশাকের লোক মাসুমকে ধরে নিয়ে যায়। এর পর থেকে তাঁরা তাঁকে খুঁজছেন। লাশ পাওয়ার খবরে তিনি মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে যান দুবার। তিনি বলেন, মাসুমের বিরুদ্ধে কোনো থানায় মামলা, জিডি কিংবা কোনো অভিযোগই নেই। মাসুম গুপ্তহত্যার শিকার বলে তাঁর ধারণা।
শামীমের ভাই সাইমুন হাসান বলেন, হাতিরপুল বাজার থেকে র্যাবের লোক পরিচয়ে শামীমসহ তিন বন্ধুকে ধরে গাড়িতে তোলা হয়েছিল। সেদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন তাঁদের এ কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন শামীমের খোঁজে ছুটে বেড়াচ্ছি। মুন্সিগঞ্জে দুটি লাশের খবর পেয়ে সেখানে যাই। কিন্তু শামীমের লাশ পাইনি।’ তাঁর বিশ্বাস, শামীম প্রশাসনের কাছেই জীবিত আছেন।
গত ২ অক্টোবর মিরপুর ১০ নম্বর থেকে আবদুল করিম হাওলাদারকে প্রশাসনের লোক পরিচয়ে গাড়িতে তুলে অপহরণ করা হয়। করিম গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসার পাশাপাশি পল্লবী থানা আওয়ামী লীগের ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক।
গতকাল করিম সম্পর্কে বলতে গিয়ে তাঁর স্ত্রী নাছিমা আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রথম আলোকে তিনি জানান, ঘটনার পর মিরপুর থানায় অপহরণের মামলা করা হয়। কিন্তু পুলিশ কিছুই করতে পারেনি। স্বামীকে উদ্ধারে র্যাবের দপ্তর থেকে শুরু করে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ফিরছেন। কোথাও কোনো খবর পেলে সেখানে ছুটে যাচ্ছেন। সর্বশেষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা অপহরণ করলে মুক্তিপণ চাইত। এখন মনে হচ্ছে, র্যাবই তাঁর স্বামীকে ধরে নিয়ে গেছে।’
গত ৩ আগস্ট শ্যামপুরের নবীন চন্দ্র গোস্বামী রোডের বাসিন্দা তপন দাস (২৮) বাজার করতে বেরিয়ে অপহূত হন। এ ব্যাপারে শ্যামপুর থানায় জিডি করা হয়।
তপনের স্ত্রী সুমী দাস বলেন, ‘চার মাস ১৪ দিন আগে তপন অপহূত হলেও উদ্ধার হননি। তাঁকে উদ্ধারে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি।’ তপনের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ নেই। তিনটি সন্তান নিয়ে তিনি এখন অসহায়। এখন শুধু আশায় বুধ বেঁধে আছেন, বেঁচে থাকলে একদিন তিনি ফিরে আসবেন।
১৭ নভেম্বর মালিবাগ থেকে অপহূত হন মো. মিরাজ (২৬), মো. দিদার (২৮), জসিমউদ্দীন (৩৫), মো. আকাশ ওরফে বাহার (২৯), শেখ সাদী (৩৮), আরিফ হোসেন (২৮) ও মো. জুয়েল (২২)।
পরে শেখ সাদী ও মিরাজ ছাড়া পান। মিরাজ গত ২০ নভেম্বর মতিঝিল থানায় অপহরণ মামলা করেন। আট দিন পর আশুলিয়া এলাকা থেকে উদ্ধার হয় জসিমউদ্দীনের লাশ। মামলাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
পুলিশ জানায়, এঁরা ‘জিনের ব্যবসা’ করতেন। ডিবির উপকমিশনার মনিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, অপহূত ব্যক্তিদের উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।
মিরাজের মা হাসিনা বিবি ফোনে বলেন, মিরাজকে ফিরে পেলেও অন্য ছেলেসহ স্বজনদের খোঁজ না পেয়ে তাঁরা এখন দিশেহারা। প্রতিদিন তাঁদের খুঁজে বেড়াচ্ছেন স্বজনেরা।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে পুরানা পল্টন লাইনের বাসার কাছে কেনাকাটা করতে বের হয়ে নিখোঁজ হন ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা কে এম শামীম। একটি মাইক্রোবাসে তাঁকে তুলে নিয়ে যায় সাদা পোশাকের লোক।
শামীমের স্ত্রী ঝর্না খানম প্রথম আলোকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শামীমের ব্যাপারে কোনো খোঁজ দিতে পারেনি। তাঁকে ফিরে পেতে তিনি পুলিশ-র্যাবসহ প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ধরনা দিয়েও কোনো ফল পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, শামীমের চিন্তায় তাঁর বৃদ্ধা মা খাওয়াদাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। তাঁদের অপেক্ষার পালা শেষ হচ্ছে না। চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তাঁদের। পরিবারের ধারণা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কোনো বাহিনী শামীমকে ধরে নিয়ে গেছে।
গত ৭ ডিসেম্বর রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর এলাকা থেকে নিখোঁজ হন ফল বিক্রেতা মামুন। গত বৃহস্পতিবার মুন্সিগঞ্জের সদর হাসপাতালের মর্গে বোনের স্বামী মামুনের (২২) লাশ খুঁজতে যান মিরপুরের নাসিমা বেগম। মর্গে থাকা পড়ে থাকা লাশটি মামুনের নয় বলে জানান নাসিমা।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ৪১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নূর হাজি (৭৫) গত ২০ অক্টোবর রাতে সাভারের বাসা থেকে নিখোঁজ হন। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগসহ খুন ও বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। ৩ ডিসেম্বর ঢাকার শ্যামলী এলাকা নূর হাজির বড় মেয়ের স্বামী আবদুল মান্নান ও ইকবাল হোসেন নামে আওয়ামী লীগের দুই কর্মীকে ধরে নিয়ে যায় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা। নূর হাজির মেয়ে স্বপ্নার দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাঁর স্বামী ও বাবাকে ধরে নিয়ে গেছে। তাঁদের উদ্ধারে তিনি একজন প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেছেন। ছুটে বেড়াচ্ছেন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে।
সূত্র: প্রথমআলো.কম, ১৮/১২/২০১১
শুধু মাসুম নন, এ রকম ১৬ জনের খোঁজে স্বজনেরাও মাসের পর মাস এখানে-সেখানে ঘুরছেন। মানবাধিকার সংস্থাসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকা থেকে ২৭ জন নিখোঁজ
হয়েছেন। এঁদের মধ্যে ১১ জনের লাশ পাওয়া গেছে। স্বজনদের অভিযোগ, এঁরা গুপ্তহত্যার শিকার। এঁদের প্রায় সবাইকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোক পরিচয়ে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে র্যাবের মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, কাউকে ধরে নেওয়া কিংবা অপহরণের সঙ্গে র্যাবের কোনো সদস্য জড়িত নন। অপরাধীরা এ ঘটনা ঘটিয়ে র্যাবের নাম ব্যবহার করতে পারে। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত র্যাব অনেক অপহূত ব্যক্তিকে উদ্ধার এবং অপহরণকারীদের গ্রেপ্তার করেছে।
গত ৮ এপ্রিল পুরান ঢাকার সদরঘাটের কালার প্লাস নামের একটি তৈরি পোশাক কারখানার মালিক তারিকউদ্দিন আহমেদ নিখোঁজ হন। সূত্রাপুরের ফরাশগঞ্জ ক্লাব কমিউনিটি সেন্টারের সামনে থেকে সাদা পোশাকের লোক সাদা মাইক্রোবাসে তুলে তাঁকে নিয়ে যায়। সূত্রাপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও খোঁজ মেলেনি তাঁর।
গতকাল বিকেলে পুরান ঢাকার হেমেন্দ্র দাস রোডের বাসায় কথা বলতে বলতে তারিকের বৃদ্ধ বাবা আজহার আলী কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘তারিক গার্মেন্টসের ব্যবসা করত। সে রাজনীতি করত না, বিয়েও করেনি।’ তিনি জানান, বিভিন্ন পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন, তাঁর ব্যবসায়ী প্রতিপক্ষ র্যাবকে ব্যবহার করে তারিককে অপহরণ করেছে। দুই মাস আগে ফোন করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মামলা কেন করেননি—জানতে চাইলে আজহার বলেন, ‘কার বিরুদ্ধে মামলা করব? সরকারের বিরুদ্ধে কি মামলা করা যায়?’
গত ২৮ নভেম্বর রাতে রাজধানীর হাতিরপুল এলাকা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও সূর্য সেন হল ছাত্রদলের সাহিত্য ও গবেষণা সম্পাদক শামীম হাসান, ৫০ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি ইসমাইল হোসেন ওরফে আল আমিন ও তাঁদের বন্ধু মাসুম হোসেনকে। এ বিষয়ে কলাবাগান থানায় দুটি জিডি করা হয়। গত বৃহস্পতিবার মুন্সিগঞ্জের ধলেশ্বরী নদীতে ইসমাইল হোসেনের মাথায় গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায়। শামীম ও মাসুম এখনো নিখোঁজ।
মাসুমের স্ত্রী হাওয়া বেগম গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ১৮ দিন আগে র্যাবের লোক পরিচয়ে সাদা পোশাকের লোক মাসুমকে ধরে নিয়ে যায়। এর পর থেকে তাঁরা তাঁকে খুঁজছেন। লাশ পাওয়ার খবরে তিনি মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে যান দুবার। তিনি বলেন, মাসুমের বিরুদ্ধে কোনো থানায় মামলা, জিডি কিংবা কোনো অভিযোগই নেই। মাসুম গুপ্তহত্যার শিকার বলে তাঁর ধারণা।
শামীমের ভাই সাইমুন হাসান বলেন, হাতিরপুল বাজার থেকে র্যাবের লোক পরিচয়ে শামীমসহ তিন বন্ধুকে ধরে গাড়িতে তোলা হয়েছিল। সেদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন তাঁদের এ কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন শামীমের খোঁজে ছুটে বেড়াচ্ছি। মুন্সিগঞ্জে দুটি লাশের খবর পেয়ে সেখানে যাই। কিন্তু শামীমের লাশ পাইনি।’ তাঁর বিশ্বাস, শামীম প্রশাসনের কাছেই জীবিত আছেন।
গত ২ অক্টোবর মিরপুর ১০ নম্বর থেকে আবদুল করিম হাওলাদারকে প্রশাসনের লোক পরিচয়ে গাড়িতে তুলে অপহরণ করা হয়। করিম গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসার পাশাপাশি পল্লবী থানা আওয়ামী লীগের ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক।
গতকাল করিম সম্পর্কে বলতে গিয়ে তাঁর স্ত্রী নাছিমা আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রথম আলোকে তিনি জানান, ঘটনার পর মিরপুর থানায় অপহরণের মামলা করা হয়। কিন্তু পুলিশ কিছুই করতে পারেনি। স্বামীকে উদ্ধারে র্যাবের দপ্তর থেকে শুরু করে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ফিরছেন। কোথাও কোনো খবর পেলে সেখানে ছুটে যাচ্ছেন। সর্বশেষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা অপহরণ করলে মুক্তিপণ চাইত। এখন মনে হচ্ছে, র্যাবই তাঁর স্বামীকে ধরে নিয়ে গেছে।’
গত ৩ আগস্ট শ্যামপুরের নবীন চন্দ্র গোস্বামী রোডের বাসিন্দা তপন দাস (২৮) বাজার করতে বেরিয়ে অপহূত হন। এ ব্যাপারে শ্যামপুর থানায় জিডি করা হয়।
তপনের স্ত্রী সুমী দাস বলেন, ‘চার মাস ১৪ দিন আগে তপন অপহূত হলেও উদ্ধার হননি। তাঁকে উদ্ধারে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি।’ তপনের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ নেই। তিনটি সন্তান নিয়ে তিনি এখন অসহায়। এখন শুধু আশায় বুধ বেঁধে আছেন, বেঁচে থাকলে একদিন তিনি ফিরে আসবেন।
১৭ নভেম্বর মালিবাগ থেকে অপহূত হন মো. মিরাজ (২৬), মো. দিদার (২৮), জসিমউদ্দীন (৩৫), মো. আকাশ ওরফে বাহার (২৯), শেখ সাদী (৩৮), আরিফ হোসেন (২৮) ও মো. জুয়েল (২২)।
পরে শেখ সাদী ও মিরাজ ছাড়া পান। মিরাজ গত ২০ নভেম্বর মতিঝিল থানায় অপহরণ মামলা করেন। আট দিন পর আশুলিয়া এলাকা থেকে উদ্ধার হয় জসিমউদ্দীনের লাশ। মামলাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
পুলিশ জানায়, এঁরা ‘জিনের ব্যবসা’ করতেন। ডিবির উপকমিশনার মনিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, অপহূত ব্যক্তিদের উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।
মিরাজের মা হাসিনা বিবি ফোনে বলেন, মিরাজকে ফিরে পেলেও অন্য ছেলেসহ স্বজনদের খোঁজ না পেয়ে তাঁরা এখন দিশেহারা। প্রতিদিন তাঁদের খুঁজে বেড়াচ্ছেন স্বজনেরা।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে পুরানা পল্টন লাইনের বাসার কাছে কেনাকাটা করতে বের হয়ে নিখোঁজ হন ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা কে এম শামীম। একটি মাইক্রোবাসে তাঁকে তুলে নিয়ে যায় সাদা পোশাকের লোক।
শামীমের স্ত্রী ঝর্না খানম প্রথম আলোকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শামীমের ব্যাপারে কোনো খোঁজ দিতে পারেনি। তাঁকে ফিরে পেতে তিনি পুলিশ-র্যাবসহ প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ধরনা দিয়েও কোনো ফল পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, শামীমের চিন্তায় তাঁর বৃদ্ধা মা খাওয়াদাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। তাঁদের অপেক্ষার পালা শেষ হচ্ছে না। চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তাঁদের। পরিবারের ধারণা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কোনো বাহিনী শামীমকে ধরে নিয়ে গেছে।
গত ৭ ডিসেম্বর রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর এলাকা থেকে নিখোঁজ হন ফল বিক্রেতা মামুন। গত বৃহস্পতিবার মুন্সিগঞ্জের সদর হাসপাতালের মর্গে বোনের স্বামী মামুনের (২২) লাশ খুঁজতে যান মিরপুরের নাসিমা বেগম। মর্গে থাকা পড়ে থাকা লাশটি মামুনের নয় বলে জানান নাসিমা।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ৪১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নূর হাজি (৭৫) গত ২০ অক্টোবর রাতে সাভারের বাসা থেকে নিখোঁজ হন। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগসহ খুন ও বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। ৩ ডিসেম্বর ঢাকার শ্যামলী এলাকা নূর হাজির বড় মেয়ের স্বামী আবদুল মান্নান ও ইকবাল হোসেন নামে আওয়ামী লীগের দুই কর্মীকে ধরে নিয়ে যায় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা। নূর হাজির মেয়ে স্বপ্নার দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাঁর স্বামী ও বাবাকে ধরে নিয়ে গেছে। তাঁদের উদ্ধারে তিনি একজন প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেছেন। ছুটে বেড়াচ্ছেন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে।
সূত্র: প্রথমআলো.কম, ১৮/১২/২০১১
Categories:
News